গ্রামের‘গণদেবতা

 আইআইটি’ প্রফেসরের চাকরি ছেড়ে মানুষটি আজ আদিবাসী গ্রামের‘গণদেবতা’ 

রূপাঞ্জন গোস্বামী

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দূরে আছে বেতুল জেলা। এই জেলার ১৩০০ গ্রামের মধ্যে ৫০০টি গ্রাম আদিবাসীদের। আধুনিক জীবনের স্পর্শ থেকে শতযোজন দূরে আছে এই আদিবাসী গ্রামগুলি। এই গ্রামগুলিতে বাস করেন গোন্দ, কোরকু, ভীল, বানসর, বারগুন্ডা, চিকওয়া, কোল সহ অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ।

 গ্রামগুলির মধ্যেও পিছিয়ে থাকা একটি গ্রাম হল কোচামৌ। যে গ্রামে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাধীনতার সাত দশক পরেও পৌঁছবার সময় পায়নি। তবে ২০১৬ সালে সেই গ্রামে পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশের এক বিশাল বাহিনী। কাঠকুটো ও পাতা দিয়ে তৈরি করা একটি দরজাহীন ঝুপড়ির সামনে। চিৎকার করে বেরিয়ে আসতে বলেছিল ঝুপড়ির বাসিন্দাকে।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বেরিয়ে এসেছিলেন জীর্ণশীর্ণ প্রৌঢ় মানুষটি। খালি গা, বুকের পাঁজরের হাড়গুলি গোনা যাচ্ছে। অবিন্যস্ত ও বড় বড় চুল দাড়ি দেখে মনে হয় কয়েক দশক কাঁচি পড়েনি! পরনে সাদা ধুতি। পায়ে টায়ারের চপ্পল। চোখ দুটি কিন্তু আশ্চর্যরকম উজ্জ্বল।

প্রৌঢ় মানুষটিকে পুলিশ জানিয়েছিল, তাঁকে এক্ষুনি থানায় যেতে হবে। সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে যাবতীয় পরিচয়পত্র। অ্যালুমিনিয়ামের একটি ট্রাঙ্ক খুলে কাগজপত্রগুলি ব্যাগে ভরেছিলেন মানুষটি। পুলিশদের সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলেন থানার দিকে। বন দফতরের কর্মীদের তৎপরতায় পিছনে তখন ভাঙা হচ্ছিল তাঁর ঝুপড়ি। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছিল মানুষটির তৈরি করা চারা গাছের নার্সারিতে।

বেতুল জেলার ঘোড়াডোংরি বিধানসভার উপনির্বাচন ছিল সামনে। লাগু হয়ে গিয়েছিল আদর্শ নির্বাচনী আচরণ বিধি। নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ গিয়েছিল, কোচামৌ গ্রামে প্রায় ২৬ বছর ধরে বাস করছেন এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। যিনি গ্রামের আদিবাসীদের একত্রিত করে প্রশাসন ও বন-দফতরের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছেন। যা প্রভাবিত করতে পারে আসন্ন নির্বাচনকে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ব্যক্তিটিকে গ্রামছাড়া করতে হবে।

আসলে মধ্যপ্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য ছত্তীসগড়ের কিছু জেলার প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলিতে প্রায় সমান্তরাল প্রশাসন চালায় মাওবাদীরা। মধ্যপ্রদেশের প্রায় দশটি জেলা মাওবাদী অধ্যুষিত। এর মধ্যে বালাঘাট ও মান্দলা মাওবাদীদের গড় বলে পরিচিত। মাওবাদীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছত্তীসগড়ের দশ জেলাতেও। এর মধ্যে ভয়ঙ্কর অবস্থায় আছে বস্তার, সুকমা, বীজাপুর ও দান্তেওয়াড়া জেলাগুলি। তাই ২৬ বছর ধরে কোচামৌ গ্রামে বাস করতে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় প্রৌঢ়কে মাওবাদী সন্দেহ করে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

থানার চেয়ারে প্রৌঢ় ব্যক্তিটিকে বসিয়ে পুলিশ অফিসার প্রৌঢ় ব্যাক্তিটির কাছে জানতে চেয়েছিলেন তাঁর পরিচয়। কে তিনি, কী তাঁর নাম, কেন তিনি আদিবাসীদের মধ্যে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে আছেন, কেন তিনি আদিবাসীদের সংগঠিত করার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন? প্রশ্নবাণে জর্জরিত মানুষটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই অফিসারেরা প্রৌঢ় ব্যক্তিটির কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিলেন। ভাবলেশহীন মুখে প্রৌঢ় তাঁর কাঁধে ঝোলানো কাপড়ের ঝুলি থেকে বেশ কিছু কাগজ বের করে রেখেছিলেন থানার টেবিলে।

কাগজগুলি ঘেঁটে পুলিশ অফিসারদের চোখ কপালে উঠেছিল। চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল তাঁদের। তাঁরা নিজের চোখকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তাঁদের সামনে যিনি বসে আছেন, যাঁকে মাওবাদী সন্দেহে তুলে আনা হয়েছে, তিনি দিল্লি আইআইটির কৃতি ছাত্র ও দিল্লি আইআইটিরই খ্যাতনামা প্রফেসর আলোক সাগর। যিনি ২৬ বছর ধরে আদিবাসীদের গ্রামে আদিবাসীদের মতো জীবনযাপন করছিলেন।

সার্টিফিকেটগুলি বলেছে আলোক সাগর ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত দিল্লি আইআইটিতে ‘বি টেক’ পড়েছেন। তারপর দিল্লি আইআইটি থেকেই ‘এম টেক’ করে পাড়ি দিয়েছিলেন আমেরিকা। হিউস্টনের রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৭ সালে পিএইচডি করে, পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হয়ে চলে গিয়েছিলেন কানাডায়। তারপর ফিরে এসেছিলেন ভারতে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ ঐতিহ্যশালী গবেষণা সংস্থা ‘কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ’ সংস্থায় ফেলোশিপ করেছিলেন ১৯৮০-৮১ সালে। তারপর দিল্লি আইআইটিরই অধ্যাপক হয়েছিলেন।

দিল্লি আইআইটি

আলোক সাগরের শিক্ষাগত যোগ্যতা জানার পর প্রায় ভূমিকম্প শুরু হয়েছিল মধ্যপ্রদেশ পুলিশে। খবর গিয়েছিল দিল্লিতে। জানা গিয়েছিল আলোক সাগরের পরিবার দিল্লির পাতপারগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁর বাবা ছিলেন আইআরএস অফিসার। তাঁর মা ছিলেন দিল্লি ইউনিভার্সিটির মিরান্ডা হাউস কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপিকা। ভাই দিল্লি আইআইটির প্রফেসর। আলোক সাগর যখন দিল্লি ইউনভার্সিটির প্রফেসর ছিলেন, তখন তাঁর ছাত্র ছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন।

যাঁর পারিবারিক অবস্থান অভিজাত সমাজে। যাঁর ঝুলিতে ইর্ষণীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা। যাঁর বেতন চমকে দিতে পারে ভারতের বেশিরভাগ চাকুরিজীবী মানুষকে। সেই মানুষটি কেন সব ছেড়ে পিছিয়ে পড়া আদিবাসীর গ্রামে অজ্ঞাতবাসে ছিলেন এবং হতদরিদ্র আদিবাসীর জীবনযাপন করছিলেন তা কিছুতেই বুঝতে উঠতে পারছিলেন না পুলিশের দুঁদে অফিসাররা।

আলোক সাগরের ছাত্র ছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন

তবে অনেক তদন্ত করেও আলোক সাগরের সঙ্গে মাওবাদীদের কোনও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি পুলিশ। তবুও আলোক সাগরকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আলোক সাগরকে গ্রাম ছাড়তে বলায় ফুঁসে উঠেছিল গ্রামবাসীরা। প্রস্তুতি নিয়েছিল গণবিক্ষোভের। ভোটের আগে অশান্তি চায়নি প্রশাসন। তাই মানুষটিকে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করা হয়নি। দিল্লি আইআইটির কৃতি ছাত্র আলোক সাগর ‘গণ দেবতা’ হয়ে থেকে গিয়েছিলেন কোচামৌ গ্রামে। ভেঙে দেওয়া ঝুপড়ি আবার বেঁধে দিয়েছিল গ্রামের মানুষ।

মনে প্রশ্ন জাগে, কীভাবে দিল্লি থেকে কোচামৌ গ্রামে পৌঁছে গিয়েছিলেন আলোক সাগর! কিন্তু তাঁর কাছ থেকে অতীত জীবনের শতকরা আশি শতাংশ তথ্য জেনে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন পুলিশ ও সাংবাদিকেরাও। তবুও তাঁর কিছু কথা থেকে জানা গিয়েছিল, চাকরি ছেড়ে আলোক সাগর ঘুরতে শুরু করেছিলেন ভারতের হতদরিদ্র আদিবাসী গ্রামগুলির মেঠো পথে।

এভাবেই কোনও একদিন কোনও এক আদিবাসী গ্রামের ধুলোমাখা পথে আলোকের পরিচয় হয়েছিল কৃষক আদিবাসী সংগঠনের সেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে। যে সংগঠনটি মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন আদিবাসী গ্রামে অধিকারের লড়াই লড়ছিল। সেই সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন আলোক সাগর। মধ্যপ্রদেশের বেতুল ও হোসাঙ্গাবাদ জেলার আদিবাসী গ্রামগুলিতে সংগঠনের কাজ শুরু করেছিলেন। এই কাজের সূত্রেই ১৯৮৯ সালে তাঁর পরিচয় হয়েছিল হতদরিদ্র আদিবাসী গ্রাম কোচামৌয়ের সঙ্গে।

কোচামৌ গ্রামের শোচনীয় অবস্থা দেখে চোখে জল এসে গিয়েছিল আলোকের। থেকে গিয়েছিলেন সেই গ্রামে। আর ফিরে যাননি। সংগঠনের কর্মীরাও তাঁকে ফেরাতে পারেননি। আলোক সাগরের মনে হয়েছিল শহরের গন্ধ মেখে কচিৎ কদাচিৎ গ্রামে এসে গ্রামের মানুষের মনে প্রবেশ করা যাবে না। ওদের ভালো করতে হলে ওদের একজন হয়ে উঠতে হবে। ওদের জীবনযাত্রা রপ্ত করতে হবে। ওদের খাওয়া দাওয়ায় অভ্যস্ত হতে হবে। ওদের ভাষায় কথা বলতে হবে।

কোচামৌ গ্রামের এক আদিবাসী পরিবারের সঙ্গে, ১৯৯০ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেছিলেন আলোক। তাঁর জন্য নিজেদের জমিতে আলাদা ঝুপড়ি বানিয়ে দিয়েছিল আদিবাসী পরিবারটি। থাকা খাওয়ার জন্য আলোক অর্থ দিতেন পরিবারটিকে। তবে নিছকই পেয়িং গেস্ট হিসেবে রইলেন না তিনি। গায়ে মাখতে শুরু করেছিলেন গ্রামের ধুলো।

পরিবারটির সঙ্গে তাদের জমিতেই চাষবাস করতে শুরু করেছিলেন। গ্রামের লোকেদের সঙ্গে জঙ্গল থেকে কুড়োতেন কেন্দু পাতা। অল্প দিনের মধ্যেই প্রায় সব ধরনের গ্রামীন কাজ শিখে নিয়েছিলেন দিল্লির অভিজাত পরিবারের বিদেশ ফেরত সন্তান। যেমন গবাদিপশু চড়ানো, কাঠ কাটা, বেড়া বাঁধা, ফসল কাটা ও গোলায় তোলা।

আলোক দেখেছিলেন আদিবাসী গ্রাম হলেও গ্রামে ফলের গাছ নেই বললেই চলে। ছায়া গাছের অভাবে গ্রামের পরিবেশ অত্যধিক গরম। তাই রুক্ষ গ্রামকে সবুজ করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আলোক। আদিবাসী পরিবারের জমিতে বানিয়ে নিয়েছিলেন চারা গাছ তৈরি করার নার্সারি। তারপর গ্রামবাসীদের নিয়ে নেমে পড়েছিলেন বৃক্ষরোপন মহোৎসবে।

আলোক যাওয়ার আগে কোচামৌ গ্রামে ছিল মাত্র ৫টি আম গাছ। এখন কয়েক হাজার। শুধু কোচামৌ গ্রামেই নয় বেতুল জেলার বিভিন্ন আদিবাসী গ্রামে লক্ষ লক্ষ গাছ লাগিয়েছেন আলোক সাগর। তাঁকে সামনে রেখে আদিবাসীরা শপথ নিয়েছিলেন, আর কোনও দিন সবুজ গাছে তাঁরা কুড়ুল মারবেন না।

আইআইটির মেধাবী ছাত্রদের পড়িয়ে আসা আলোক সাগর, গ্রামের এক বাড়িতে খুলেছিলেন স্কুল। মাটির ঘরে বসে পড়াতে শুরু করেছিলেন শিক্ষা থেকে শত আলোকবর্ষ দূরে থাকা কোচামৌ গ্রামের শিশুদের। সেখানে কিছুদিন পড়িয়ে আদিবাসী শিশুগুলিকে আলোক ভর্তি করতে শুরু করেছিলেন তিন কিলোমিটার দূরের প্রাইমারি স্কুলে। ধীরে ধীরে শিক্ষার আলো পড়তে শুরু করেছিল নিরক্ষর গ্রামটির ওপর।

আগে বন-দফতরের কর্মীরা কোচামৌ ও স্থানীয় গ্রামগুলির আদিবাসীদের বিভিন্নভাবে শোষণ করত। পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য দিত না। পাওনা বকেয়া রাখত বছরের পর বছর। আলোক সাগর কুরামু যাওয়ার পর থেকে বদলে গিয়েছিল চিত্রটা। আদিবাসী কৃষক সংগঠন থেকে সরে এসে আলোক সাগর যুক্ত হয়েছিলেন আদিবাসী শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে। ফলে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছিল স্থানীয় শ্রমিক আদিবাসীরা। জল জঙ্গল জমির অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল আদিবাসী শ্রমিকের লড়াই।

সাংবাদিকেরা আলোককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সরকার এলাকার উন্নয়নের জন্য কিছু করছে কিনা। দপ করে জ্বলে উঠেছিল আলোক সাগরের চোখ। ঠান্ডা গলায় বলেছিলেন, “একটা মাত্র কাজ সরকার ঠিক ঠাক করছে, সংগঠিত উপায় আদিবাসীদের শোষণের কাজ।” এরপর আলোক সাগর দিয়েছিলেন একটা উদাহরণ। বলেছিলেন, “গ্রামটির মূল আয় আসে জঙ্গল থেকে কেন্দুপাতা সংগ্রহ করে। সেখানেও চলে বন-দফতরের প্রবল শোষণ। ৫০টি পাতা নিয়ে তৈরি হয় একটি বান্ডিল। প্রতি বান্ডিলের দাম ১ টাকার কিছু বেশি। অথচ এই একটা বান্ডিল থেকে তৈরি হয় ১০০টা বিড়ি। যার দাম ৭০-৮০ টাকা। বলুন এটা শোষণ নয়?”

আজ কোচামৌ গ্রামের ‘মাস্টারজি’ আলোক সাগরকে দেখলে মনে হবে কোনও আদিবাসী গাঁওবুড়ো। জীবনে যিনি শহরের মুখ দেখেননি। যিনি স্থানীয় উচ্চারণে স্থানীয় সবকটি আদিবাসী ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। কোচামৌতে ৩৪ বছর কাটিয়ে যাঁর নিজস্ব সম্পত্তি বলতে, দড়ির খাটিয়া, তিন জোড়া কুর্তা পাজামা, দুটি ধুতি, অ্যালুমিনিয়ামের একটি ট্রাঙ্ক ও কয়েক দশকের পুরোনো একটি ভাঙা সাইকেল।

সাংবাদিকরা একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনার দিল্লি আইআইটির সহকর্মীরা তো আপনার থেকে অনেক ভাল আছেন। বিশাল বাংলো, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স, গাড়ি, সম্মান, ফরেন ট্যুর নিয়ে।” মুচকি হেসে আলোক বলেছিলেন, “প্রত্যেকের নিজের রাস্তা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে। ওরা ওদের রাস্তায় খুশি। আমি আমার রাস্তায়।”

২০১৭ সালে পদ্মশ্রী পাপকদের প্রাথমিক তালিকায় নাম ছিল আলোক সাগরের। কিন্তু নাম ঘোষণার আগেই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি পুরষ্কার নেবেন না। সভ্য সমাজের পুরষ্কার নিয়ে তিনি আদিবাসীদের থেকে নিজেকে আলাদা করতে চাননি। বিদেশের ইউনিভার্সিটিতে পড়াবার আমন্ত্রণ হেলায় ফিরিয়ে দিয়ে, প্রান্তিক সমাজের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে, পরম তৃপ্তি নিয়ে বাঁচতে চেয়েছেন বাস্তবের দধীচি হয়ে।

Comments

Popular posts from this blog

নগর-পরিকল্পনা

মানুষকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন