রবীন্দ্রনাথ
‘ তোমার পায়ের পাতা সবখানে পাতা, কোনখানে রাখব প্রণাম?’ উত্তম দত্ত ‘সমস্ত ধুলামাটি সত্ত্বেও দেবী যাহাদিগকে আপনার বলিয়া কোলে তুলিয়া লন দেউড়ির দরোয়ানগুলা তাহাদিগকে চিনিবে কোন্ লক্ষণ দেখিয়া? তাহারা পোশাক চেনে, তাহারা মানুষ চেনে না। তাহারা উৎপাত করিতে পারে, কিন্তু বিচার করিবার ভার তাহদের উপর নাই। সারস্বতদিগকে অভ্যর্থনা করিয়া লইবার ভার যাঁহাদের উপরে আছে তাঁহারাও নিজে সরস্বতীর সন্তান; তাঁহারা ঘরের লোক, ঘরের লোকের মর্যাদা বোঝেন।’ — ‘সাহিত্যের বিচারক’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ এভাবেই তাঁর অন্তরের যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অযোগ্য অপদার্থ সমালোচকদের উদ্দেশ্যে। ক্ষিপ্ত জীবনানন্দও একদা প্রাণহীন, বিবেকশূন্য সমালোচকদের প্রতি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন তাঁর আকণ্ঠ ঘৃণা : বরং নিজেই তুমি লেখোনাকো একটি কবিতা—’ বলিলাম ম্লান হেসে; ছায়াপিণ্ড দিলো না উত্তর; বুঝিলাম সে তো কবি নয়— সে যে আরূঢ় ভণিতা: পাণ্ডুলিপি, ভাষ্য, টীকা, কালি আর কলমের ’পর ব’সে আছে সিংহাসনে— কবি নয়— অজর, অক্ষর অধ্যাপক; দাঁত নেই— চোখে তার অক্ষম পিঁচুটি; বেতন হাজার টাকা মাসে— আর হাজার দেড়েক পাওয়া যায় মৃত সব কবিদের মাংস কৃমি খুঁট...